ধরে বেঁধে এক জায়গায় দিয়ে দিলেই হবে― তাহলে ভুল করা হবে।।
আমাদের সমাজে বিয়ে নিয়ে অত্যন্ত গোমরাহি কাজ প্রচলিত। বিশেষত বাবা-মা নিজের পছন্দমাফিক নিজেদের ছেলে-মেয়েকে বিয়ে করানোর জন্য জোর-জবদরদস্তি করেন। এই কারণে অনেক সংসার উজাড় হয়ে যায়। যদি বাবা-মা মনে করেন যে, যে সমন্ধ এসেছে তা অনেক ভালো, এখানে মেয়েকে বিয়ে দিলে মেয়ে সুখী হবে। তো মেয়েকে জিজ্ঞাসা করার পর যদি মেয়ে রাজি না হয় তাহলে তাকে বুঝানো উচিত। তারপরেও যদি রাজি না হয় তাহলে তাকে জোর করা যাবে না।
কারণ এটা সম্পূর্ণ মনের ব্যাপার। সবার আলাদা একটা পছন্দ থাকতে পারে। এখানে বুঝানোর পর না বুঝলে জোর করা যাবে না। যদি জোর করা হয়, তাহলে সংসারটা ধ্বংস হয়ে যাবে। এমন অনেক সংসার রয়েছে যে, জোর করে বিয়ে দেয়ার কারণে পরিবারটাই বিরান হয়ে গেছে। ফলাফল হয়ে যায় সম্পূর্ণ উল্টো।
আমাদের সমাজে ছেলের ইচ্ছা-অনিচ্ছটাকে কিছুটা গুরুত্ব দিলেও মেয়ের মতামতের কোনো গুরুত্ব নেই বললেই চলে। এতে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সংসার সুখের না হয়ে, হয়ে যায় আগুন-কয়লায় পোড়া জীবন।
কিছু বাবা-মা জিদ করে বসেন যে, ছেলে বিয়ে করালে এই মেয়েকেই বিয়ে করাবো অথবা বলেন, মেয়েকে বিয়ে দিলে অমুক ছেলের কাছেই দেবো অন্যথায় কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেবো।
কেউ একথা বলে যে― আমি কথা দিয়ে ফেলেছি, এখানে যদি মেয়েকে বিয়ে না দেই তাহলে আমার মাথা কাটা যাবে অথবা আমার নাকে-মুখে চুনকালি পড়বে। এ ধরনের জিদই ছেলের জীবন বরবাদ করে দেয়, নষ্ট করে দেয় ফুলের মতো ফুটফুটে মেয়ের জীবনটা।
যুগটা এখন আর এমন নেই, ধরে বেঁধে এক জায়গায় দিয়ে দিলেই হবে― তাহলে ভুল করা হবে।।


No comments